বাংলাদেশে প্রযুক্তির ভাষা ইংরেজি, প্রযুক্তিশিক্ষার ভাষাও ইংরেজি। দেশের প্রযুক্তিবিদ, ব্যবস্থাপকেরাও কার্যক্ষেত্রে ইংরেজি ব্যবহার করেন। অধিকাংশই এখনো ইংরেজিনিষ্ঠ, ইংরেজিই যেন তাদের শিক্ষা, আভিজাত্য ও যোগ্যতার মানদণ্ড। দেশীয় সমাজ, সংস্কৃতি ও সামাজিক বিজ্ঞানের বিভিন্ন শাখায় গবেষণার ক্ষেত্রে ইংরেজিকেই অবলম্বন করা হয়। যখন কোনো গবেষক বাংলা ভাষায় সমাজ-রাষ্ট্রের নানা ক্রিয়াকলাপ-প্রক্রিয়া ব্যাখ্যায় করেন, তখন তিনি উদ্ঘাটন করতে চান বিষয়ের অভ্যন্তরীণ সূত্র।আর যখন ইংরেজিতে লেখেন, তখন তিনি হয়ে ওঠেন তথ্য-উপাত্ত সরবরাহকারী।
স্বাধীনতার পর বাংলা ভাষা যোগ্যতার অন্যতম মানদণ্ডরূপে বিবেচিত হলেও বর্তমানে ইংরেজি সে জায়গা দখল করেছে। অর্থনৈতিক সুযোগ-সুবিধার বিচারে, নিয়োগ, যোগ্যতা-দক্ষতার ক্ষেত্রে বর্তমানে বাংলার কোনো স্থান যেন নেই। এ কারণে বাংলাকে অবলম্বন করা বা শেখার আবশ্যকতা নেই। ইংরেজিতেই অনেকের ব্যক্তিগত স্বার্থ রক্ষিত হয় বলে ইংরেজি ব্যবহারেই তাঁরা বেশি উৎসাহ বোধ করেন। সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, নতুন পদ, শাখা-প্রশাখা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, শিক্ষাক্রম, কোম্পানি, বিজ্ঞাপন সর্বস্তরে আজ ইংরেজি-বাংলার সংঘর্ষ; বাংলা ভাষার বিশৃঙ্খলা ও ব্যর্থতা। যেখানে নতুন নতুন পরিভাষা তৈরি হওয়ার কথা, শুদ্ধ-নির্ভুল বাংলা লেখার কথা, সেখানে উপযুক্ত-ঝলমলে বাংলা শব্দ-বাক্য বাদ দিয়ে ইংরেজি শব্দ বাংলা বর্ণমালায় লেখা হচ্ছে, বাংলা-ইংরেজি মিশ্রণে শব্দ-বাক্য তৈরি করা হচ্ছে। এ ধারায়, প্রতিবর্ণীকৃত রূপের প্রয়োগ থেকে বাদ যাচ্ছে না ‘বাঙালি’, ‘ভাষা’, ‘আন্দোলন’, ‘মুক্তিযুদ্ধ’, ‘মুক্তিসংগ্রাম’, ‘মুক্তিযোদ্ধা’, ‘স্বাধীনতা’, ‘মানচিত্র’, ‘পতাকা’, ‘দেশ’ প্রভৃতি চেতনাদীপ্ত ও ঐতিহাসিক শব্দগুলোও।
from WordPress https://ift.tt/3u9IEE1
via IFTTT