অস্থিরতা বড়দের মধ্যেও দেখা দেয়, যখন তারাও বেকায়দামার্কা প্রশ্নের মুখোমুখি হন। ওই যে একটা কৌতুক আছে না—টিপু নামের এক ছেলে পরীক্ষায় খারাপ করেছে। বাবা বাসায় ফিরেই রিপোর্ট কার্ড নিয়ে ফেটে পড়লেন, ‘আমার কলিগ মকবুল সাহেবের ছেলে বল্টু তো তোর সাথেই পড়ে, ওর রোল ৪ হলে তোর রোল ৩৫ হলো কী করে? সমস্যা কী তোর?’ বাপকা ব্যাটা টিপুর পাল্টা প্রশ্ন, ‘আমার ক্লাসফ্রেন্ড বল্টুর বাবা মকবুল আংকেল তো তোমার সাথেই চাকরি করেন, তাঁর প্রমোশন হলে তোমার প্রমোশন হলো না কেন? সমস্যা কী তোমার?’
টিপুর অবস্থা কী হয়েছিল, তা নিশ্চয়ই অনুমান করতে পারছেন। শিল্পী মাহমুদুজ্জামান বাবুর ‘সংবিধান’ গানের কথাগুলো মনে পড়ে গেল, ‘আমরা শুধু জানতে চেয়েছিলাম, রাষ্ট্রপক্ষ চোখরাঙানি দিলেন…’।
এই চোখরাঙানি কোথায় নেই! এই তুলনা কোথায় নেই! এই রোল নম্বর কোথায় নেই! স্কুলজীবন পেরিয়ে এলেও অদৃশ্য রোল নম্বর আমাদের কপালে খোদাই করা থাকে। অফিসে, বাসায়, পথেঘাটে—সবখানেই রোল নম্বর আমাদের তাড়া করে। রোল নম্বর এক দুঃস্বপ্ন। ‘বড়’রা ওই রোল নম্বর ধরে ধরে আমাদের পিঠে চাপড় দেন নয়তো থাপড় দেন। কারণ, এটাই ‘সিস্টেম’। আহমেদ হেলাল যা বলেছিলেন, তা আবার বলি, ‘মা-বাবা যখন বিভিন্ন বিষয় নিয়ে শিশুকে আরেকজনের সঙ্গে তুলনা করে তখন শিশুর ধারণা—জগৎটা কেবলই এগিয়ে থাকার, এখানে যেকোনো উপায়েই হোক আরেকজনকে পেছনে ফেলে সামনে যেতে হবে।’
আজকের শিশু তো আগামী দিনের ‘বস’, কাজেই তিনি যখন রোল নম্বরের চক্করে পড়েছিলেন, তখন বাকি জীবনে বাকিদের ওই চক্করেই তো ঘোরাবেন। তবে গতকালের আরেকটা খবর দেখে আশাবাদী মনটা বলছে, এই চক্কর কিংবা চক্র হয়তো ভাঙবে। খবরে বলা হয়েছে, ‘প্রাক্-প্রাথমিক থেকে উচ্চমাধ্যমিক পর্যন্ত পাল্টে যাচ্ছে শিক্ষাক্রম। বিষয় ও পরীক্ষা কমিয়ে বইয়ে আনা হচ্ছে পরিবর্তন। প্রাক্-প্রাথমিক শিক্ষা এক বছরের পরিবর্তে দুই বছর হবে। দশম শ্রেণির আগে কোনো পাবলিক পরীক্ষা থাকবে না।’
from WordPress https://ift.tt/2J2Iw6J
via IFTTT